বাংলার নবজাগরণ

 

উনবিংশ থেকে বিংশ শতক পর্যন্ত বাংলায় শিক্ষা-সংস্কৃতির অগ্রগতির ধারা কে বাংলার নবজাগরণ বলে। বাংলার তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার অবস্থা খুবই করুণ ছিল।শিক্ষার অভাবে ও বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণে বাংলার মানুষ অনেক পিছিয়ে ছিল।এছাড়া বাংলার মানুষ অশিক্ষিত হওয়ায় ইংরেজি শাসক গোষ্ঠী তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিত। কুসংস্কারের ভেতর সতীদাহ প্রথা ছিল অন্যতম। বাংলার নবজাগরণ প্রধানত কলকাতাতে শুরু হয়, তবুও এর প্রভাব বাংলাতে ছড়িয়ে পড়েছিল।নবজাগরণের কারণে দেশে ছাপাখানা, সংবাদপত্র, কলেজ, মাদ্রাসা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাকরণ রচনা প্রতিষ্ঠিত হয়। উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া সতীদাহ রোধ এবং বিধবা বিবাহ চালু করার মত অনেক কাজ নবজাগরণ এর ফলে হয়। এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে রাজা রামমোহন রায়, মীর মোশারফ হোসেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমূখ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ,সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।বিধবা বিবাহ, স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন শুরু এবং বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, বহুবিবাহ প্রথা তিনি বন্ধ করেছিলেন। নারী শিক্ষা বিস্তারে তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি।তিনিই প্রথম মেয়েদের জন্য বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সুযোগ করে দেন। ব্যাকরণ রচনা, সাহিত্য  শিক্ষায় তার অবদান অনেক।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ইত্যাদি ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ জনক ছিলেন তিনি। বাংলা শিক্ষা সাহিত্য পাঠ প্রসারে তাঁর গুরুত্ব অনেক। তার লেখা কবিতা গল্পের মাধ্যমে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। কুসংস্কার, অত্যাচার, অধিকার আদায় নিয়ে তার লেখা নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

কাজী নজরুল ইসলাম একজন বাঙালি কবি সঙ্গীতজ্ঞ, দার্শনিক, ঔপন্যাসিক ছিলেন। তাঁর লেখা, গান, কবিতা, গল্প মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি ছিলেন বিদ্রোহী কবি।ইংরেজদের বিরুদ্ধে শুধু লেখার মাধ্যমে নয় সরাসরিও বিদ্রোহ করেছেন। বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ প্রসারে তিনি অবদান রাখেন।

 

রাজা রামমোহন রায় প্রথম ভারতীয় ধর্মীয়- সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন, ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি দার্শনিক।তৎকালীন রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্মীয় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন। তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য।

 

বাংলায় এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনীষী ছিলেন যাদের অবদান ছাড়া নবজাগরণ করা সম্ভব ছিল না তাদের এই অবদানই মানুষ আজ এত এগিয়ে আছেন।

 

সূত্র : গুগল 

শাহনেওয়াজ সেরাজ সুবর্ণা

ইন্সট্রাক্টর অফ আর এস ডিপার্টমেন্ট

ডেফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Tags: No tags

Comments are closed.