টেলিকমিউনিকেশনে ক্য়ারিয়ার ভাবনা

টেলিকমিউনিকেশনে ক্য়ারিয়ার ভাবনা (পার্ট-2)

টেলিকমিউনিকেশনে ক্য়ারিয়ার ভাবনা

আমরা যারা টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হব বা রানিং ছাত্র-ছাত্রী অথবা যারা কমপ্লিট করেছে সকলের জন্যে আজকে আমার এই লেখা। ৩ পর্বের টেলিকমিউনিকেশন ক্যারিয়ার আলোচনায় গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোন কোন বিষয় নিয়ে পড়ানো হয় এবং একজন শিক্ষার্থী পাশ করা পর্যন্ত কি ধরনের দক্ষতা অর্জন করে। আজ আমরা  দ্বিতীয় ধাপে আলোচনা করব, টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর একজন ছাত্র ছাত্রী কোন কোন টেকনিক্যাল সেক্টরে চাকরির সুযোগ সুবিধা থাকে।

যেহেতু টেলিকমিউনিকেশন এ ইলেকট্রনিক্স টেলিকমিউনিকেশন এবং কম্পিউটার সাইন্সের জ্ঞান দেওয়া হয়, ফলে একজন শিক্ষার্থীর জন্য এই ডিপার্টমেন্ট এ পড়ার পর এই তিনটি ফিল্ডের যেকোনো একটি তার পছন্দসই বিষয়ে দক্ষ হয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকে। 

টেলিকম থেকে একজন ছাত্র পাস করে বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানিগুলোতে সিস্টেম সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানী যেমন: টেলিনর, ই ডট কো, হুয়াওয়ে, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ইত্যাদি তে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। সেই সাথে সরকারি বিভিন্ন টেলিকম এবং অপটিক্যাল ফাইবার কোম্পানীগুলোতে, যেমন: বিটিসিএল, বিএসসিসিএল, বিটিআরসি তে চাকরির বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র আইসিটি অফিসার অথবা সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকে।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি থেকে পাশ করার পর একজন শিক্ষার্থীর জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে এয়ারম্যান, সাইফার এসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগদানের সুযোগ রয়েছে, যার রেংক ওয়ারেন্ট অফিসার পর্যন্ত হতে পারে।

টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি তে কম্পিউটার সাইন্সের ওয়েব, গ্রাফিক্স বিভিন্ন জিআইএস সফটওয়্যার এর বিষয়ে শেখানোর ফলে একজন ছাত্র ওয়েব/অ্যাপ্লিকেশন  ডেভেলপার, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এছাড়া কারো যদি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দক্ষতা থাকে তাহলে সে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রবলেম সলভিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে দক্ষতা অর্জন করে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন কনটেস্টে ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজের পোর্টফোলিও কে একজন জুনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে পারে। সেই সাথে প্রবলেম সলভিং এর বিভিন্ন উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে স্যামসাং, হুয়াওয়ে এবং আরো বড় বড় কোম্পানিতে ইন্টার্ন বা সরাসরি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পেতে পারে।

এছড়াও টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজিতে ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান দেওয়া হয় বলে যে কোন শিক্ষার্থী চাইলেই আরডুইনো, মাইক্রোকন্ট্রোলার, এমবেডেড সিস্টেম, আইওটি ইত্যাদি তে পছন্দ অনুসারে দক্ষ হয়ে পাস করার পর এক জন এমবেডেড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অথবা হার্ডওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। সেইসাথে চতুর্থ প্রজন্মের সিস্টেম ডিজাইনিং এর জন্য টেলিকম এর স্টুডেন্টদের জন্য অপার সুযোগ রয়েছে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ইলেকট্রনিক্স এবং কম্পিউটার সাইন্স এর সমন্বয় বিভিন্ন অটোমেটিক সিস্টেম অর্থাৎ রোবটিক্স, সেলফ ড্রাইভিং কার, ইন্ডাস্ট্রি অটমেশন, দৈনিন্দন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন আইওটি ডিভাইস ইত্যাদির চাহিদা ব্যাপক ভাবে বেড়েই চলছে।

শিক্ষার্থীরা টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করার পর টেকনিক্যাল সেক্টর ছাড়াও আরো বিভিন্ন সেক্টরে তাদের ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করতে পারে। পরবর্তী পর্বে আরো অন্যান্য সেক্টর এ ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে আলোচনা করব। সেইসাথে ধাপে ধাপে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গাইডেন্স সম্পর্কে আলোচনা করব।

ধন্যবাদ

YouTube player

 

লেখক:

আতিকুর রহমান (Atiqur Rahman)

জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশন

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Tags: No tags

Comments are closed.