শিক্ষার লক্ষ্যই হোক যুগ উপযোগী 

শিক্ষার লক্ষ্যই হোক যুগ উপযোগী

এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

বর্তমানে মানুষের জীবনকে সহজ ও আনন্দময় করার মূল হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা  আইসিটি (Information and Communication Technology-ICT) । সময়ের সাথে যুগের সাথে তালমিলিয়ে উঠার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে “কম্পিউটার টেকনোলজিতে “অধ্যায়ন ।

কম্পিউটার টেকনোলজি শুধু একটা নাম মাএ, কেননা এটি হচ্ছে অনেকগুলো অংশ নিয়ে সমগ্র আধুনিক বিশ্ব সৃষ্টির মূল ।  অংশসমুহ-

  • Programming (প্রোগ্রামিং)
  • Networking (নেটওয়ার্কিং)
  • Hardware (হার্ডওয়্যার)
  • Designing (ডিজাইনিং)
  • Development (ডেভেলপমেন্ট)…………………।

Change is the only constant in life – দার্শনিকদের এই কথাটি প্রযুক্তি বিশ্বের বেলাতে আরো বেশি সত্য। প্রতি  বছরেই যেন বিশাল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে, নতুন প্রোগ্রামিং ভাষা, নতুন ফ্রেমওয়ার্ক, নতুন ডেটাবেজ, ক্লাউড কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিংয়ের নতুন নতুন প্রয়োগ, মোবাইল কম্পিউটিং, আইওটি—লিখে শেষ করা যাবে না। এ জন্য দেশের Software Industry Authority-রা প্রায়ই বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর সিলেবাস আধুনিক করতে হবে, নতুন নতুন জিনিস শেখাতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু তারা আসলে ভুল বলেন। আগামী দিনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার জন্য তৈরি হতে হলে, শিক্ষাব্যবস্থায় কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তির পেছনে দৌড়ানোটা বোকামি হবে। বরং নিজের ভিত্তিটা অনেক বেশি মজবুত করার পেছনেই জোর দেওয়া উচিত। পাইথন লাইব্রেরি ব্যবহার করে মেশিন লার্নিং করার চেয়ে শিক্ষার্থীদের ডেটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদমের ওপর দখল থাকটা বেশি জরুরি। প্রবলেম সলভিং স্কিল থাকাটাও অনেক জরুরি। তবে প্রবলেম সলভিং স্কিল মানে এই নয় যে যেসব প্রবলেম আগে সলভ করা হয়েছে সেগুলো আবার সলভ করতে পারা, বরং নতুন প্রবলেম সলভ করা বা নতুন সমস্যা নিয়ে চিন্তা করার দক্ষতা। সমস্যার সমাধান করতে করতেই এই দক্ষতা তৈরি হবে এবং শিক্ষাপ্রতিস্থানে অধ্যায়ন অবস্থায় এই দক্ষতা তৈরির শ্রেষ্ঠ সময়। তেমনি লেটেস্ট ডেটাবেজ শেখার চেয়ে রিলেশনাল ডেটাবেজের মৌলিক ধারণা আয়ত্বে আনা বেশি জরুরি, নতুন ফ্রেমওয়ার্ক শেখার চেয়ে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং শেখাটা বেশি জরুরি। মোটকথা হচ্ছে, নতুন টেকনোলজির পেছনে না দৌড়ে, কম্পিউটার সায়েন্সের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার সায়েন্সের মূল বিষয়গুলো যাদের কাছে পরিষ্কার থাকবে, তাদের পক্ষে যেকোনো সময় নতুন টেকনোলজি আয়ত্বে আনতে বেগ পেতে হবে না। প্রযুক্তি নিয়ে এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য একটি শক্ত ভিত্তির ওপর নিজেকে দাঁড় করানোটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়নের জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি যেমন কোন বিকল্প নেই, তেমনি শক্ত ভিত্তি অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

 

শিক্ষার প্রতিটি স্থরে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী করার লক্ষে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, গেলটেবিল বৈঠক, আলোচনা সভা করে এর গুরুত্ব গণমাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে তুলে ধরতে হবে।

ডিজিটাল যুগে উপযোগী পাঠ্যবিষয় পড়াতে হবে’

—মোস্তফা জব্বার

মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এ শিল্পবিপ্লবের ফলে গতানুগতিক অনেক       চাকরি বিলুপ্ত  হয়ে যাবে।যেখানে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সঙ্গে একান্ত সঙ্গী হয়ে যাবে প্রযুক্তি। তাই বলা যায় প্রযুক্তি শিক্ষাই হল দক্ষ জনশক্তির মূলআর  দক্ষ জনশক্তির গড়াই হল কারিগরি শিক্ষার উদ্দ্যেশ ।

 

=================

Mst. Sathi Akter

Instructor of Computer Technology

Daffodil Polytechnic Institute

Comments are closed.