টেক্সটাইল সেক্টরে ফ্রি প্রশিক্ষন মিলবে ভাতা ও চাকরি

বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ) এর আওতায় বিটিএেমএ এর তত্বাবধানে বিএসডিআই এর সাথে টেক্সটাইলের নিন্মক্ত কোর্স সমূহ পরিচালনা করে থাকে।

কোর্স সমূহঃ-

  • এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং ,
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড লিন ম্যানুফ্যাকচারিং
  • প্রডাকশন প্লানিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট

এসব কোর্সের সুবিধাঃ-

  • বিনা খরচে কোর্সটি শেখা সম্ভব এবং রয়েছে চাকরির ব্যবস্থা
  • কাজের সুযোগ বৃদ্ধি
  • দক্ষ কর্মীর চাহিদাপূরন

নূন্যতম যোগ্যতাঃ-

  • নূন্যতম ৮ম শ্রেনী অথবা সমমান।
  • বয়স সীমা ১৫ বছর থেকে ৪০ বছর।

বিএসডিআইতে জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি ডিআইইউ-এর বিজয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট  ইনস্টিটিউটের আয়োজিত জব ফেয়ার ২০১৯-এর উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট হতে হোটেল ম্যানেজমেন্ট ডিপার্মেন্ট হতে  ডিপ্লোমা এবং স্বল্প মেয়াদি কোর্স ম্পন্নকৃত সকল শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত জব পেতে সহায়তা করতে জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। দেশের ১৫টির অধিক কোম্পানি অংশ নিয়েছিল তাদের কোম্পানির জন্য যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের কোম্পানিগুলোকে এক ছাদের নিচে এনে  বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট  ইনস্টিটিউটের সকল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি প্রাপ্তিতে সহায়তা করা। যেখানে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাচ্ছে তাদের সিভি ড্রপ করে সরাসরি তার পছন্দের কোম্পানির কাছে ইন্টারভিউ দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার। ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ নূরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট  ইনস্টিটিউটের -এর কার্যনির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন জব ফেয়ার ২০১৯-এর উদ্বোধন করেন।

কেন আপনি বেছে নিবেন শেফ পেশা

বর্তমানে নারী ও পুরুষ সকলের কাছে শেফ পেশা বেশ জনপ্রিয় পেশা হয়ে উঠেছে। ট্যুরিজম এবং হোটেল সেক্টরের উন্নতির সাথে সাথে পেশা হিসেবে শেফ একটি জনপ্রিয় পেশা হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ১,৫০,০০০,০০ এর বেশি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব রেস্টুরেন্টে শেফ হিসেবে কাজ করছে প্রায় ৩০,০০০,০০ জন লোক ।

বাংলাদেশে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ১২ টি হোটেল। এই হোটেল গুলোর রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০০০ শেফের।

দেশে বিদেশে অসংখ্য চাকরীর পাশাপাশি উদ্যোগতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধা রয়েছে যেমন:

  • রান্নার বই বা রেসিপির বই লেখা
  • ক্যাটেরিং বিজনেস করতে পরেন
  • রান্নার পরামর্শকারী হিসেবে চাকরীর সুবিধা
  • নিজে রেস্টুরেন্ট করতে পারেন অথবা
  • শেয়ারে রেস্টুরেন্টের বিজনেস করতে পারেন
  • ঘরে বসে রান্নার হোম ডেলিভারি ব্যাবসা করতে পারেন ।

বর্তমানে এটি একটি চাহিদা সম্পন্ন পেশা হয়ে উঠেছে।

এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর এর বিএসডিআই পরিদর্শন

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রলায়ের, অর্থ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়ধীন স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেসমেন্ট  (সেইপ) এর আওতায় বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) এর তত্বাবধায়নে এবং বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) নারীদেও উদ্যোক্তা তৈরি ও উন্নয়নের লক্ষে ৩ মাস মেয়াদী ’ ফুড এন্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট’ কোর্সটি পরিচালনা করে আসছে। গত ২৩ শে জুন সেইপ প্রকল্পের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান এশিয়ান  ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ প্রশিক্ষন চলাকালীন সময়ে সরজমিনে বিএডিআই পরিদর্শন করেন। তিনি বিএডিআই এর ২৫ জন মহিলা প্রশিক্ষনাথীর সঙ্গে কথা বলে সন্তোস প্রকাশ করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদেও জন্য তৎক্ষণাৎ কুলিনারি স্কিলস প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানান তার কার্যলয়ে। গত ৩০ শে জুন এডিবি এ ঢাকাস্থ কার্যালয়ে সেই প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।  যেখানে বিএসডিআই এর ২৫ জন মহিলা প্রশিক্ষনার্থী ৫টি দলে বিভক্ত হয়ে , বিভিন্ন সাধের ৫ টি স্বাস্থ্যকর  খাবার তৈরি ও পরিবেশন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও এডিবির সকল কর্মকর্তাগন খাবার গহন করেন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাদের তৈরিকৃত খাবার মূল্যায়ন করেন। মূল্যায়ন শেষে অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করেন। এছাড়াও  এডিবি, ২৫ জন প্রশিক্ষনার্থীর কাছ থেকে  ব্যাবসায়িক  পরিকল্পনা সংগ্রহ সহ ঋণ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহন কওে এবং আশাস্ত করে যে অতি সত্তর তাদেন ব্যাবসান জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করবে। বাংলাদেশের নারীদের জন্য, সত্যিই এটি একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনাব, মোঃ জালাল আহমেদ, ইপিডি (এডিশনাল সেক্রেটারি), সেইপ প্রজেক্ট, অর্থ মন্ত্রনালয়, জনাব, মোঃ ফজলুল বারী, ডিইপিডি, সেইপ প্রজেক্ট, জনাব, দিলরুবা শাহীনা, এইপিডি সেইপ প্রজেক্ট, জনাব, পিযূস কান্তি দত্ত, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর, বিডব্লিউসিসিআই এবং জনাব, কে এম হাসান রিপন, এক্রিকিউটিভ ডিরেক্টর, বিএসডিআই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বিএডিআই এর ২৫ জন মহিলা প্রশিক্ষনাথীর সঙ্গে কথা বলে সন্তোস প্রকাশ করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদেও জন্য তৎক্ষণাৎ কুলিনারি স্কিলস প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানান তার কার্যলয়ে। গত ৩০ শে জুন এডিবি এ ঢাকাস্থ কার্যালয়ে সেই প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।  যেখানে বিএসডিআই এর ২৫ জন মহিলা প্রশিক্ষনার্থী ৫টি দলে বিভক্ত হয়ে , বিভিন্ন সাধের ৫ টি স্বাস্থ্যকর  খাবার তৈরি ও পরিবেশন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও এডিবির সকল কর্মকর্তাগন খাবার গহন করেন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাদের তৈরিকৃত খাবার মূল্যায়ন করেন। মূল্যায়ন শেষে অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করেন। এছাড়াও  এডিবি, ২৫ জন প্রশিক্ষনার্থীর কাছ থেকে  ব্যাবসায়িক  পরিকল্পনা সংগ্রহ সহ ঋণ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহন কওে এবং আশাস্ত করে যে অতি সত্তর তাদেন ব্যাবসান জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করবে। বাংলাদেশের নারীদের জন্য, সত্যিই এটি একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনাব, মোঃ জালাল আহমেদ, ইপিডি (এডিশনাল সেক্রেটারি), সেইপ প্রজেক্ট, অর্থ মন্ত্রনালয়, জনাব, মোঃ ফজলুল বারী, ডিইপিডি, সেইপ প্রজেক্ট, জনাব, দিলরুবা শাহীনা, এইপিডি সেইপ প্রজেক্ট, জনাব, পিযূস কান্তি দত্ত, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর, বিডব্লিউসিসিআই এবং জনাব, কে এম হাসান রিপন, এক্রিকিউটিভ ডিরেক্টর, বিএসডিআই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ শে জুন সেইপ প্রকল্পের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান এশিয়ান  ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ প্রশিক্ষন চলাকালীন সময়ে সরজমিনে বিএডিআই পরিদর্শন করেন। তিনি বিএডিআই এর ২৫ জন মহিলা প্রশিক্ষনাথীর সঙ্গে কথা বলে সন্তোস প্রকাশ করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদেও জন্য তৎক্ষণাৎ কুলিনারি স্কিলস প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানান তার কার্যলয়ে। গত ৩০ শে জুন এডিবি এ ঢাকাস্থ কার্যালয়ে সেই প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।  যেখানে বিএসডিআই এর ২৫ জন মহিলা প্রশিক্ষনার্থী ৫টি দলে বিভক্ত হয়ে , বিভিন্ন সাধের ৫ টি স্বাস্থ্যকর  খাবার তৈরি ও পরিবেশন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও এডিবির সকল কর্মকর্তাগন খাবার গহন করেন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাদের তৈরিকৃত খাবার মূল্যায়ন করেন। মূল্যায়ন শেষে অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করেন। এছাড়াও  এডিবি, ২৫ জন প্রশিক্ষনার্থীর কাছ থেকে  ব্যাবসায়িক  পরিকল্পনা সংগ্রহ সহ ঋণ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহন কওে এবং আশাস্ত করে যে অতি সত্তর তাদেন ব্যাবসান জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করবে। বাংলাদেশের নারীদের জন্য, সত্যিই এটি একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনাব, মোঃ জালাল আহমেদ, ইপিডি (এডিশনাল সেক্রেটারি), সেইপ প্রজেক্ট, অর্থ মন্ত্রনালয়, জনাব, মোঃ ফজলুল বারী, ডিইপিডি, সেইপ প্রজেক্ট, জনাব, দিলরুবা শাহীনা, এইপিডি সেইপ প্রজেক্ট, জনাব, পিযূস কান্তি দত্ত, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর, বিডব্লিউসিসিআই এবং জনাব, কে এম হাসান রিপন, এক্রিকিউটিভ ডিরেক্টর, বিএসডিআই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয়

বাইবেলে সুন্দর একটি কথা আছে যে, He who liveth, he who beliveth, shall never die. অর্থাৎ যে বিশ্বাস করে সে-ই বেঁচে থাকে। এই বিশ্বাস এবং কাজের মধ্যে যে ডুবে যেতে পেরেছে তাকে কোন দুঃখ, মালিন্য স্পর্শ করতে পারে না। কাজের নিজস্ব আনন্দ রয়েছে। কাজের মধ্যে ডুবে যেতে হলে স্বপ্নের প্রয়োজন।

আমরা অনেকেই মনে করি স্বপ্ন মানেই একটি নিছক কল্পনামাত্র। কিন্তু আসলে তা নয়; স্বপ্ন মানেই বাস্তব, স্বপ্ন মানেই গন্তব্য। আমি কোথায় যেতে চাই তার নাম স্বপ্ন। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারে।

বাস্তব স্বপ্ন ও চেষ্টা কখনোই ব্যর্থ হয় না। যদি স্বপ্নকে বিশ্বাসে রূপান্তরিত করতে পারা যায় তাহলে তা অর্জনও করা যায়। বিশাল এই পৃথিবীতে দূর মহাকাশের নক্ষত্র থেকে আলো এসে পড়ে। আমরা সবাই এই পৃথিবীর প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছি মাত্র কিছু সময়ের জন্য যে সময়টা খুব বেশীও নয় আবার খুব কমও নয়। এই সময়কে নিজের ইচ্ছে মতো সাজিয়ে নিতে দরকার সুপরিকল্পিত স্বপ্নের। আমরা সবাই সাফল্য চাই। সকলে জীবনে সেরা জিনিস চাই।

কেউই সাদামাটা জীবন চাই না, হামাগুড়ি দিয়ে চলতে চাই না।

কেউই দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ হতে চায় না। ছোট ছোট ভাবনা, ছোট ছোট স্বপ্ন আর ছোট ছোট কাজের সমষ্টিই জীবন। প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি স্বপ্ন প্রভাবিত করে জীবনকে।

স্বপ্ন সাধারণত দুই রকমের হয়। যার একটি হলো স্বাভাবিক স্বপ্ন, যা আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখি, এই স্বপ্নের কোন মানেই থাকে না।

আরেক ধরনের স্বপ্ন আছে, যা স্বপ্ন বা মনছবি অথবা আমরা বলতে পারি জীবন ছবি। আর এটা হলো বড় হওয়ার স্বপ্ন, জীবনে একটা কিছু করার স্বপ্ন। এই স্বপ্নই আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন:- লেখক, ব্যবসায়ী, গায়ক, নায়ক, শিক্ষক ইত্যাদি হওয়ার স্বপ্ন।

পক্ষান্তরে ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন অনেকে মনেও রাখেন না।

আত্মোপলব্ধি

মানুষ তার আশার  সমান সুন্দর ও বিশ্বাসের সমান বড় হতে পারে। প্রত্যেকের হৃদয়ে একজন মানুষ বসবাস করে। সে কথা বলে, আত্মনিমগ্ন হয়ে কান পাতলে সে ভেতরের মানুষটির কথা শোনা যায়। সে যা বলে ঠিক সে অনুযায়ী কাজ করলেই জীবনে সফল হওয়া যায়, বড় কিছু করা যায়। কারণ সেখানে আমি বা আপনি সম্পূর্ণ একা। জীবনে আপনি কী করতে চান এটা আপনার পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র আপনাকে নির্ধারণ করে দিতে চাইবে। কিন্তু এসব কিছুর বাহিরে আপনার ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা থাকতে পারে কিংবা আপনিও পারিপার্শ্বিকের নির্ধারণ করা লক্ষ্যের অনুসারী হতে পারেন। তবে তার আগে একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন; উপলব্ধি করুন। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে একটা উত্তর আসবেই। সেই পথটা অনুসরণ করুন। কখনো বিফল হবেন না।

বিশ্বাস

বাইবেলে বলা হয়েছে, বিশ্বাস পাহাড়কেও টলাতে পারে।  বিশ্বাস একটি অদ্ভূত শক্তি, এটা কোন ম্যাজিক বা অলৌকিক বিষয় নয়।

“আমি দৃঢ় নিশ্চিত-আমি পারবো। ”

এই একটি কথা খুব অদ্ভুতভাবে আপনার মনোবল বাড়াবে। বাস্তব স্বপ্ন ও চেষ্টা কখনোই ব্যর্থ হয় না। রাইট ভাতৃদ্বয় স্বপ্ন দেখতেন এমন এক যন্ত্র বানাবেন যাতে করে আকাশে ওড়া সম্ভব। তারা তৈরী করলেন প্লেন। সভ্যতার চেহারাই পরিবর্তন হয়ে গেল তাদের এই আবিষ্কারের ফলে। মার্কনি স্বপ্ন দেখতেন, স্রষ্টার শক্তিকে জয় করে কাজে লাগাবেন। তিনি যে ভুল স্বপ্ন দেখেননি তার প্রমাণ বেতার ও টেলিভিশন আবিস্কার। উল্লেখ্য যে, মার্কনি যখন দাবি করলেন, তিনি তারের সাহায্য ছাড়াই বাতাসের মধ্য দিয়ে সংবাদ প্রেরণের পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন, তখন তার বন্ধুরা তাকে মনস্তাত্ত্বিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন মাত্র তিন মাস স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। অতিমাত্রায় অপদার্থের অপবাদ নিয়ে স্কুল থেকে বহিস্কৃত হওয়া হেলেন কেলার মাত্র ১৯ মাস বয়সে শ্রবণশক্তি, বাকশক্তি আর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। বিশ্বাস আর স্বপ্নের সংমিশ্রণে হয়ে ওঠেন মহিয়সী এবং তার জীবন বিরাট এক সত্যের প্রমাণ- বাস্তবে পরাজয় স্বীকার না করলে কেউ পরাজিত হয় না। মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে পারে যদি সে যা আশা করে, তা বিশ্বাসে রূপান্তরিত করতে পারে।

ধৈর্য্য

বাস্তব কখনো কখ্নো কল্পনার চেয়েও অবিশ্বাস্য হয়। কেউ যদি বলে আমি পঁচিশ বছর বয়সে অর্ধ পৃথিবীর সম্রার্ট হবো- কথাটা গাঁজাখুরি বলে উরিয়ে দিবে অনেকে, কিন্তু আলেকজান্ডার তা হয়েছিলেন। সংবাদ পাঠক পদের জন্য এক আবেদন প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ তার কণ্ঠস্বর যর্থাথ ছিল না। তিনিই আজকের অমিতাভ বচ্চন! একজন স্কুল শিক্ষক, ছাত্র অংকে মনযোগী না হওয়ায় এবং ছোট্ট অংক করতে না পারায় তাকে শিক্ষক   বলেছিলেন, “তুমি জীবনে কিছুই হতে পারবে না।” সেই বালক বড় হয়ে হয়েছিলেন মস্তবড় বিজ্ঞানী। তার নাম আলবার্ট আইনস্টান

উপরের উদাহরণগুলোর সারমর্ম হচ্ছে: যিনি কখনো পরাজিত হলেও লক্ষ্যহীন হন না, তিনিই প্রকৃত বিজয়ী।

মানুষের মস্তিষ্ক এক অসাধারণ বায়ো-কম্পিউটার। এই কম্পিউটারে যে মানুষ যে রকম প্রোগ্রাম করবেন, তিনি সেরকম ফল পাবেন। যিনি হতাশ হয়ে নিজেকে বলবেন, তার দ্বারা কিছুই হবে না, তিনি জীবনে ব্যর্থ হবেন। আর যিনি হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখবেন, তিনি ঠিকই তা করে ফেলবেন। বিশ্বাস বা প্রোগ্রামিং হয়ে গেলে বায়ো কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে বিজয়ের মালা পরিয়ে দিবে আপনাকে। সাফল্যের জন্য যা কিছু করতে হয়, মন শরীরকে দিয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে করিয়ে নেবে।

স্বপ্ন

সৃষ্টিকর্তার কাছে সব মানুষ সমান। তাই তিনি সবাইকে বড় হওয়ার জন্য, জীবনে বড় কিছু অর্জন করার জন্য সামর্থ্য দেন। যারা তাঁর স্বপ্নটা দেখা মাত্র চিনতে পারেন এবং স্বপ্ন পূরণের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করেন, তাদের জীবনেই স্বপ্ন পূরণ হয়।

জর্জ ফোরম্যান ১৯৯৪ সালে ২০ বছর পর মুষ্টিযুদ্ধের খেতাবী লড়াইয়ে জয়ী হয়ে প্রমাণ করেছিলেন স্বপ্নের নিকট আত্মসমর্পণের কোন বয়স সীমা নেই, যদি সমর্পণ করা যায় তা হলে জয় সুনিশ্চিত। ১৯৭৪ সালে মোহাম্মদ আলীর হাতে নক আউট হওয়ার ২০ বছর পর ১৯৯৪ সালে ৪৫ বছর বয়সে ২৬ বছরের মাইকেল মুরারকে পরাজিত করে বক্সিং এর খেতাবী লড়াই জেতার মত অসম্ভবকে তিনি সম্ভব করেছিলেন, তার স্বপ্নের জোড়েই। জেতার পর সংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন কিভাবে সম্ভব করলেন এই অসম্ভব কাজটি? তিনি বলেছিনে “স্বপ্ন দেখে। ২০ বছর ধরে বিজয়ের এই স্বপ্ন- ই তো আমি সব সময় দেখেছি। বয়স বাড়লেই মানুষ তার স্বপ্ন বিসর্জন দেয় না। আপনি মনে প্রাণে যা চান তা পাবেনই।”

লক্ষ্য নির্ধারণ

লক্ষ্য অর্থ অভীষ্ট বা উদ্দেশ্য। লক্ষ্য শুধুই অলীক স্বপ্ন নয়- এটা এমন স্বপ্ন যা বাস্তবায়িত করা হয়। লক্ষ্য ‘যদি আমি পারতাম’ এর আবছা অস্পষ্ট ধারণার চেয়ে অনেক বড়। লক্ষ্য অর্থ ‘যার জন্য আমি তৎপর হয়ে কাজ করি’। লক্ষ্য স্থির না হলে কিছুই করা সম্ভব নয়। প্রথম পদক্ষেপটি পর্যন্ত নেয়া অসম্ভব!

মানুষও হোঁচট খেতে খেতে এগোয় বটে তবে যদি তার কোন গন্তব্য জানা না থাকে তাহলে সে কোথাও পৌঁছাতে পারে না। জীবনের জন্য যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, তেমনি জীবনে বড় হওয়ার জন্য প্রয়োজন স্বপ্নের। স্বপ্ন ছাড়া কেউই হঠাৎ সফল হয় না। অক্সিজেন যেমন বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন তেমনি আপনি কোথায় পৌঁছতে চান সে সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। শুরু করার আগে কোথায় যাবেন তা স্থির থাকা দরকার।

পারিপার্শ্বিকতা

ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতে আপনাকে এই ধারণাটি সহায়তা দিতে পারে। তা হলো- নিজের ভবিষ্যতকে ৩টি ভাগে ভাগ করা। যেমন:- (১) কর্মক্ষেত্র (২) পারিবারিক (৩) সামাজিক।

এভাবে জীবনটাকে ভাগ করতে পারেন। আবার চাইলে আরো বেশি ভাগে ভাগ করতে পারেন। জীবনের কাছ থেকে কি পেতে চান? কিভাবে নিজেকে সন্তুষ্ট করা যায় তা জানতে পারবেন এবং আপনার স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হবে। জীবনের ৩টি বিভাগই একে অপরের সাথে যুক্ত। প্রত্যেকটি বিভাগকে যে বিভাগটি সবচেয়ে বেশি প্রভাহিত করে তা-ই হলো আপনার কাজ।

শীর্ষস্থান শুধু্মাত্র একজনের জন্য

রাজার সিংহাসনে রাজা একাই বসেন। একই সিংহাসনে একসাথে দুইজন বসতে পারেন না। দুই হাজার মাইল হিমালয় পর্বতমালায় হয়তো কোটি কোটি লোকের জায়গা হতে পারে। কিন্তু শৃঙ্গের সর্বোচ্চ শিখরে দুইজন লোক এক সাথে আরোহণ করতে পারে না। একজনকে আগে উঠতে হয়। তারপর পরের জনকে। এজন্য তেনজিং এবং হিলারি এক সাথে শিখরে আরোহণ করতে পারেননি। তেনজিং আগে উঠার কারণে সর্বপ্রথম এভারেষ্ট শৃঙ্গ আরোহণকারী হিসেবে এক নম্বারে তেনজিং এর নাম চলে এসেছে।

বাইবেলে আছে, টপ অব দ্যা হিলে যেতে হয় একা। আসলেই তাই। যে মানুষ প্রতিকুলতা এড়িয়ে একাকী চলতে শুরু করে সে-ই পথ পেয়ে যায়, সে-ই এগিয়ে যায়। তার কথাই ইতিহাসে লেখা থাকে।

পরিশেষে বলতে চাই, যে স্বপ্নের জন্য আপনি মরতেও রাজি এমন স্বপ্ন দেখুন। স্বপ্ন না থাকলে আপনি কখনও উন্নতি করতে পারবেন না, কারণ স্বপ্নই জীবনের জ্বালানী। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখুন এবং তা পূরণের প্রতিজ্ঞা করুন। সমস্ত ঝুঁকি গ্রহণ করুন সাহসের সাথে।

আপনি কোথায় আছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আসলে আপনি কোথায় যেতে চান সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বিজ্ঞানী আইনস্টান বলেছেন, “জ্ঞানের চেয়েও কল্পনা (স্বপ্ন) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

Reference: http://10minuteschool.com/blog/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC/

বদলে যাও বদলে দাও

আমি সেবার এসএসসি দিয়েছি। প্রথম পাবলিক পরীক্ষা, মনে তাই অনেক টেনশন- কী হয় কী হয় কে জানে! তো এরকমই একটা সময়ে, সেদিন এসএসসির রেজাল্ট দেবে-এইরকম একটা দিনে আমি আর আমার বন্ধু রাস্তা দিয়ে হাঁঁটছিলাম।

আমার কোক খেতে অনেক ভালো লাগে। যথারীতি প্রচণ্ড টেনশনে আমার সাথে ছিল একটা কোকের বোতল। রাস্তা দিয়ে হাঁটছি- নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, কিন্তু আমার মাথা থেকে ওই রেজাল্টের বিষয়টা আর যাচ্ছেই না! টেনশনে হাঁটতে হাঁটতে এক টান দিয়ে পুরো কোকটা শেষ করে বোতলটা ছুঁড়ে মারলাম রাস্তার আরেক কোণায়।

আমার বন্ধুটি কিছুই বললো না। ওকে দেখলাম একটু পরে সেই কোণায় যেতে। রাস্তা পার হলো, আমারই ফেলে দেয়া বোতলটা তুলে নিলো, তারপর আমাকে বললো, “এবার চল, এগোই।”

আমি মনে মনে ভাবলাম, বন্ধুটির বাসায় মনে হয় খালি প্লাস্টিকের বোতল লাগবে, ওর আম্মু বোতল এনে দিতে বলেছে, এইজন্যেই বেচারা কষ্ট করে বোতল কুড়িয়ে নিয়ে আসলো। আমার ধারণা ভুল ছিল।

আমার বন্ধুটি একটু পরে দূরে রাস্তার উল্টোদিকে একটা ডাস্টবিন দেখলো। সে আবারো রাস্তা পার হলো, ডাস্টবিনে বোতলটা ফেললো, তারপর নির্বিকার ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “চল!”

পুরো ঘটনাটা বলতে গেলে আমার বুকের মাঝখানটায় এসে লাগলো। একেবারেই নীরবে আমার বন্ধুটি প্রচ্ছন্ন চপেটাঘাত করলো আমাকে, বিষয়টা বেশ গায়ে লেগেছিলো সেদিন। আম্মু-আব্বু থেকে শুরু করে অনেকেই অনেকবার বলেছে আমাকে, ময়লাগুলো জায়গামতো ফেলতে- কিন্তু সেগুলো এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিয়েছি, যথারীতি।

কিন্তু আমার এই বন্ধুটি, একেবারেই নীরবে দারুণ একটা কাজ করে ফেলে আমার মধ্যে আমূল একটা পরিবর্তন নিয়ে এলো। সারাজীবন আম্মু বকা দিয়ে যেটা আনতে পারে নি, বন্ধুর এই নীরব প্রতিবাদ দেখে সেই আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, যেখানে সেখানে আর ময়লা ফেলবো না। কোনদিন না।

সেই থেকে শুরু। ডাস্টবিন ব্যবহার করতে ভুলি নি আর কোনদিন। আমার এই বন্ধুটির এক নীরব প্রতিবাদই আমার পরিবর্তনের সূতিকাগার হয়ে পড়লো। আমিও আশেপাশের কেউ কোন ময়লা যেখানে সেখানে ফেলে রাখলেই চুপচাপ সেটা তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দিতাম।

এতে দু’টো বিষয় হয়।

এক, মানুষকে যদি তুমি খুব রাগী ভাষায় গিয়ে বলো- ভাই ময়লা কেন ফেলছেন, ঠিক জায়গায় ময়লা ফেলেন, সেক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে, তুমি অযথাই একটা বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে পারো। সেসবের কোন দরকার তো নেই!

দুই, মানুষটা যখন দেখবে যে তার ফেলা ময়লাটা অন্য কেউ তুলে ফেলছে, তখন তার মধ্যে চরম অনুশোচনাবোধ আসবে। তার মনে হবে, আমি নিজের ময়লাটাই ফেললাম না, আরেকজন অন্য মানুষের ময়লা ফেলে দিয়ে আসছে! এই একটা শিক্ষা কিন্তু তোমরাও তোমাদের জীবনে কাজে লাগাতে পারো, দারুণ কার্যকর হবে- হলফ করেই বলে দিতে পারি আমি! নিজে বদলে গিয়ে দেখালেই কিন্তু মানুষের চোখে পরিবর্তনটা ভালভাবে ফুটে ওঠে। 

মানুষকে কথা বললে তারা হয়তো কথাটা শোনে, অনেকে আবার হেসেই উড়িয়ে দেয়। সিস্টেমকে বদলে দিতে হলে আগে বদলে যেতে হবে নিজেকে। শুধু প্লাস্টিকের বোতলের কথাই নয়, বরং সবকিছুকেই যদি এভাবে আমরা নিজে নিজে করার অভ্যাস করতে পারি, দেখবে জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে গেছে- সবাই তারিফও করছে তোমার!

Reference: http://10minuteschool.com/blog/be-the-change/

মাদার তেরেসার ১০টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি

নীল পাড়ের সাদা সুতি শাড়ি, রুক্ষ চামড়া ও মায়াবী এক চেহারা- শুধু এতটুকু বললে যে মানুষটির ছবি চট করে মাথায় চলে আসে, তার নাম মাদার তেরেসা। মহীয়সী এই নারী পৃথিবীতে মানবতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি ছিলেন একজন ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারক, যিনি সারাজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন মানবতার দোরগোড়ায়।

নানা সময় ছুটেছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে, কোলে তুলে নিয়েছেন পীড়ন-নিপীড়নে থাকা হাজারো শিশুদের, সেবা করেছেন অনেক অবহেলিতদের। পৃথিবীতে তাঁর অবদান কখনোই বলে শেষ করা সম্ভব নয়। মাদার তেরেসা জগতজুড়ে অনেক খ্যাতি পেয়েছেন নিজের কষ্টসাধ্য চেষ্টার কারণে, তবে পথটা এতটাও মসৃণ ছিল না যতটা না শুনতে মনে হচ্ছে। অসহায়দের নিয়ে চলাফেরার সাথে সাথে তাঁর নিজের মধ্যেও অনেক উপলব্ধি এসেছিলো যা মাদার তেরেসার নানা উক্তির মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে। এসব উক্তি যতটা শ্রুতিমধুর, ঠিক ততটাই অনুপ্রেরণামূলক।

মাদার তেরেসার ১০টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি:

১. পিতৃবিয়োগের পর সময়টা অনেক কঠিন ছিল মাদার তেরেসার জন্য। তাঁর মা তাঁকে রোমান ক্যাথলিক আদর্শে অনেক কষ্টে বড় করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি ধর্মীয় জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন এবং যোগদান করেন সিস্টার্স অব লরেটো নামক এক মিশনারি সংস্থায়। ১৯৪৬ সালে ধর্মীয় কাজে ভারতের দার্জিলিং যাত্রাপথে তাঁর মধ্যে এক গভীর উপলব্ধি আসে যাকে পরবর্তীতে তিনি “কল উইদিন দ্যা কল (Call within the call)” হিসেবে আখ্যা দেন। এসময়ই তাঁর মধ্যে দরিদ্রের মাঝে বেঁচে থাকার যে আকাঙ্ক্ষা, সেটির পরিস্ফুটন ঘটে। তাঁর মতে সর্বদা দুস্থ অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত আমাদের প্রতি আদেশ এবং এই আদেশ অমান্য করা মূলত ধর্মবিশ্বাসের অবমাননা করা। তিনি বলেন,

“বাইরের জগতে এখনি বেড়িয়ে পড়ো এবং ভালোবাসো প্রত্যেকটি মানুষকে। তোমার উপস্থিতি যেন হাজারো মানব হৃদয়ে নতুন আলোর সঞ্চার জাগায়।“

২. আমি একটি ব্যাক্তিগত গল্প বলবো এখন। সময়টা ছিল ২০১৩ কিংবা ২০১৪ এর একটা সময়। আমি ক্লাস নাইনে পড়তাম তখন, বনশ্রীর আইডিয়াল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজে। সে সময়ে আমার স্কুলের কিছু ক্লাসমেট নিজ উদ্যোগে একটা সামাজিক সংঘ খুলেছিলো, নাম আলোড়ন, যার মূল কাজই হচ্ছে বনশ্রীর রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো হাজারো পথশিশু, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধীসহ আরো অনেক মানুষকে কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করা।

সাহায্যের তহবিলের জন্য ওরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রোড ক্যাম্পিং করে টাকা উঠাতো। আমার অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল আলোড়নে যোগ দেয়ার। একবার আমার খুব কাছের এক বন্ধুকে আলোড়নের এসব উদ্যোগের কথা বলতেই সে আমাকে বলেছিলো “শুন, এভাবে মাত্র একজন-দুইজন মানুষকে সাহায্য করে কী লাভ বল? দেশে যে হাজারো মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে, তার কী হবে? একজন মানুষকে সামান্য একটা জামা কিনে না দিয়ে বরং বৃহত্তর উদ্যোগে কিছু করা উচিত।” আমাদের সমাজে এরকম অনেক ঘটনাই দেখতে পাওয়া যায়। এইরকম ঘটনাগুলোকে ইঙ্গিত করে মাদার তেরেসা বলেছিলেন,

“যদি তুমি একশো মানুষকে সাহায্য করতে সক্ষম না হও, তাহলে অন্তত একজনকে সাহায্য করো।“

৩. ১৯৪৮ সালে মাদার তেরেসা গরীব ও সাহায্যের আশায় থাকা মানুষদের নিয়ে নিজের মিশনারি কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি নিজ উদ্যোগে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন কলকাতার মতিঝিল এলাকায়। এত বড় একটা উদ্যোগ নেয়ার পূর্বে তিনি কারোর জন্য অপেক্ষা করেননি। তাঁর মনে হয়েছে যে উদ্যোগ কারোর না কারোর তো ঠিকই নিতে হবে। কারোর আদেশ-উপদেশের বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে নিজ প্রচেষ্টাতেই সকল কাজ শুরু করার জন্য মাদার তেরেসার জীবনী ছিল অন্যতম দৃষ্টান্ত।

“কারোর নেতৃত্বের অপেক্ষা না করে নিজ থেকেই সকল উদ্যোগ নেয়া উচিত।“

৪. শুরুর দিকেবিদ্যালয় পরিচালনা করার কাজটা তাঁর একার পক্ষে অনেক কঠিন ছিলো। ধর্মপালন থেকে শুরু করে মানবসেবা, সত্যিই একটা সময় তাঁর মাথার ওপর পাহাড়সম দায়িত্বের বোঝা চলে আসে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে হাজারো মানুষ যুক্ত হতে শুরু করে। দ্রুতই এই খবর ভারতীয় সরকারের নজরে আসে। ভারতীয় সরকারের তখনকার প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জহরলাল নেহেরুও মাদার তেরেসার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। মাদার তেরেসা মনে করতেন,

“আমি একা এই পৃথিবীকে বদলে দিতে পারবোনা। তবে আমি স্বচ্ছ জলে একটি ছোট পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করে বড় বড় জলতরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারবো।“

৫. মাদার তেরেসার জীবনী থেকে জানা যায় যে, তিনি জন্ম থেকেই ছিলেন প্রচণ্ড প্রভুভক্ত। তিনি দিনের বড় একটা সময় প্রার্থনায় মগ্ন থাকতেন, বাকি সময় মানবসেবায়। তিনি মানবসেবাকে ধর্মপালনের একটি মহৎ অংশ হিসেবেই সর্বদা গণ্য করতেন। তাঁর দর্শন ছিল,

“সৃষ্টিকর্তা তোমাদের সফল হওয়ার আদেশ দেননি, শুধুমাত্র সর্বদা অবিরাম চেষ্টা ধরে রাখার আহ্‌বান করেছেন।“

তিনি তাঁর কাজকে সবসময় শ্রদ্ধা করতেন এবং একই সাথে ভরসা রাখতেন সৃষ্টিকর্তার উপর। তিনি জানতেন, কঠিন সাধনা করলে ঈশ্বর অবশ্যই একদিন মুখ তুলে তাকাবেন।

৬. মাদার তেরেসা যে সারাজীবন নিজের অবদানের জন্য মানুষের প্রশংসা পেয়েছেন, তা কিন্তু নয়। জীবনের নানা পর্যায়ে তিনি মানুষের সমালোচনার শিকার হয়েছেন। সমালোচিত হয়েছেন ধর্মযাজকের নির্দিষ্ট পোশাক ত্যাগ করে সাদা শাড়ি তুলে নেয়ার সময়, সমালোচিত হয়েছেন গর্ভপাত নিয়ে সমালোচনা করায়। এমনকি অনেকে তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করতে দেরি করেনি। কিন্তু এসব কথার তীর মাদার তেরেসাকে নিজের কর্মজীবন ও মানবসেবা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এমনকি তিনি এসব মানুষকে কখনো এসব কথার জের ধরে বিচার করেননি। তাঁর জীবনী থেকে পাওয়া একটি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি হলো,

“মানুষকে বিচার করে সময় নষ্ট করলে কখনোই তাদেরকে ভালবাসার সময় পাওয়া যাবে না।”

এমনকি যেসব মানুষ মাদার তেরেসার কাজের সমালোচনা করতো, মাদার তেরেসা ঠিক সেসব মানুষকেই পরবর্তীতে মানবতার ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য অনুরোধ করতেন।

৭. আমি একটা জিনিস খেয়াল করে দেখলাম। সেটা হলো, এই ব্লগটি লেখার সময় আমি কিছুক্ষণ গুগলের এদিক-সেদিক ঘুরাফেরা করলাম, কিছু তথ্য সংগ্রহ করলাম, কিছু ছবি বের করলাম। হঠাৎ করে চোখে ধরা পড়লো যে, মাদার তেরেসার বেশিরভাগ ছবিতেই তাঁর হাস্যজ্জল একটা চেহারা ভেসে উঠছে। মাদার তেরেসা খুব গম্ভীর হয়ে বসে আছেন, এমন ছবি খুব কম আছে বলেই ধরে নিচ্ছি। আসলে মাদার তেরেসা নিজেও খুব হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। তিনি মানবসেবার কাজের মধ্যেই তাঁর সবটুকু সুখ খুঁজে পেতেন। তিনি জানতেন, একজন অসহায় হতদরিদ্রের কাছে সামান্য হাসির মূল্য কতটুকু। তাঁর একটি মহৎ উক্তি হলো,

“প্রত্যেকের প্রতি ভালবাসার শুরুটা হোক হাসির মাধ্যমে। “

মাদার তেরেসা আরো বলেন “অনেক মানুষের জীবনে একটি ছোট্ট হাসি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা আমরা কখনোই বুঝতে পারবো না।“ সকল ভাল কাজের শুরু হাসির মাধ্যমে-এই নীতিতেই যেন মাদার তেরেসার আপাদমস্তক গড়া ছিল।

৮. ১৯৯৬ সালে পৃথিবীর শতাধিক দেশে সর্বমোট ৫০০টিরও বেশি মিশনারি পরিচালনা করেছিলেন মাদার তেরেসা। মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে যে চ্যারিটির যাত্রা শুরু হয়েছিলো, সময়ের ব্যবধানে সেই সংখ্যাটি কয়েক হাজারে পৌঁছায়। তারা সবাই পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানবসেবা অব্যাহত রেখেছিলেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন। গরীবদের মাঝেও যারা গরীব, তাদের জন্য কাজ করতো এই চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান। যেই শুরুটা হয়েছিল ক্ষুদ্র আকারে, আজ তা পৃথিবীব্যাপ্ত আকার ধারণ করেছে।

“আমরা সকলেই শুরুতেই বিশাল কোনো মহৎ কাজ করতে পারবো না। কিন্তু ভালবাসা দিয়ে ছোট ছোট অনেক ভাল কাজ করা সম্ভব।“

একসময়ের সেই ক্ষুদ্র মানবসেবা প্রতিষ্ঠান আজ মাদার তেরেসা অর্গানাইজেশন এ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত রয়েছে বিখ্যাত মাদার তেরেসা সেন্টার।

৯. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ- ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫, এই পাঁচ বছরব্যাপী চলমান এই যুদ্ধ পুরো পৃথিবীর মানচিত্রকে যেন ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলে। জার্মান হিটলার বাহিনীর হাত ধরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ অচিরেই প্রাণ হারায়, আহতদের সংখ্যাটা অজানা থাকাই শ্রেয়। চারদিক তছনছ করে দেয়া এই যুদ্ধকালীন সময়ে পৃথিবীবাসী যেন ভুলে গিয়েছিল শান্তির প্রকৃত শব্দার্থ। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নেতারা কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন পৃথিবীতে পুনরায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।

এসময় এই পুরো ব্যাপারটা স্বয়ং মাদার তেরেসাকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিলো। পৃথিবীতে এত ধ্বংসযজ্ঞ, মানুষের আর্তনাদ তাঁর মনকে ব্যথিত করে তোলে। তিনি মানুষের কাছে গিয়ে শুনেছেন যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা। তিনি মনে করতেন, অস্ত্র দিয়ে কখনোই শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। শান্তি ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশি দরকার যেটি, সেটি হচ্ছে মানবতা।

“অস্ত্র দিয়ে কখনোই শান্তিকে ঘরে আনা সম্ভব নয়, সম্ভব ভালবাসা ও সহানুভূতির হাত ধরে।“

১০.

“সবচেয়ে ভয়াবহ দারিদ্রতা হচ্ছে একাকীত্ব এবং প্রিয়জনের সহানুভূতি না পাওয়ার অনুভূতি।“

 বর্তমান সময় কিশোর-কিশোরিদের মধ্যে আলোচিত একটি বিষয় হলো ডিপ্রেশন। ভয়াবহ এই ব্যাধির অন্যতম কারণ হচ্ছে একাকীত্ব। একজন মানুষের জীবনে একাকীত্ব যে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা কল্পনাতীত। মাদার তেরেসার জীবনেও এমন অনেক সময় এসেছে, যখন তিনি একাকীত্বে ভুগেছেন। অল্প বয়সেই পরিবার ছেড়ে এসে মিশনারিতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বাকি জীবন পরিবারকে কাছে পাননি।

এমনকি ১৯২৮ সালে ১৮ বছর বয়সে গৃহত্যাগের পর তিনি তাঁর মায়ের চেহারা আর কখনো দেখতে পাননি। তিনি কখনো কখনো অনেক ভেঙ্গে পড়তেন একাকীত্বের জন্য। ঘরে ফেরার জন্য তাঁর মন সবসময় আনচান করতো, কিন্তু দায়িত্বের টানে কখনোই তা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি।

মাদার তেরেসার জীবনী আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, অনেক অনুপ্রেরণারও জোগান দেয় তাঁর অসাধারণ জীবন। কিভাবে মানুষকে সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে আত্মতুষ্টি পাওয়া যায়, তারই নিদর্শন নীল পাড়ের শাড়ি পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল ঐ মহীয়সী নারী। তাই বোধহয় মাদার তেরেসার প্রতিটি বাণীই যেন জয়গান গায় মানবতার, জয় হয় মানুষের।

Reference :

https://www.catholicnewsagency.com/news/from-inspiration-to-adoption-a-story-of-working-with-mother-teresa-47977

https://www.brainyquote.com/authors/mother_teresa

http://10minuteschool.com/blog/mother-teresa-quotes/

 

 

 

Press Conference for a special initiative named “Mom-preneur”

A press conference had been organized to give a brief on Mom-preneur, a special initiative to empower the kids Mom, on 17 February at National Press Club, Bangladesh. Where the CEO of Daffodil Family Mr. Mohammad Nuruzzaman read the press note and highlighted details of the event. The Principal of Daffodil International School presided over the Press Briefing Session and Mr. KM Hasan Ripon, the advisor of Bangladesh Skill Development Institute answered different question of the Journalists regarding this event. The initiative has been taken jointly by Bangladesh Skill Development Institute and Daffodil International School.